সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন পর্ব-৪ ( হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক )

 


আমরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহনের জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্ত আমরা কি বুঝি কোন ডাক্তারের যোগ্যতা কতখানি? সঠিক যোগ্যতার ডাক্তার নির্বাচন না করলে হয়ত রোগীর অযথা ভোগান্তি হতে পারে। তাই ডাক্তারদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে জানার ধারাবাহিক আলোচনার ৪র্থ পর্ব: হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক

 

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থা

বহির্বিশ্বের অনেকদেশের মতবাংলাদেশেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা জনপ্রিয়আসুন এবারজানা যাকএই চিকিৎসাব্যবস্থার চিকিৎসকদের যোগ্যতা সম্পর্কে

    সনদবিহীন সাধারণচিকিৎসক: মূলতগ্রাম মফস্বল শহরে ধরনেরচিকিৎসক দেখাযায় ধরনেরচিকিৎসকদের কোন সনদ নেই কিংবাঅস্বীকৃত সনদথাকতে পারে ধরনের চিকিৎসকদের জ্ঞানসীমিত এবংশুধুমাত্র অতি সাধারণ পর্যায়ের রোগচিকিৎসার উপযুক্ত

  ডিপ্লোমা: আমাদেরদেশেডি.এইচ.এম.এস হিসেবেপরিচিত ধরনেরচিকিৎসকগণ বিভিন্নডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথি কলেজহতে কোর্সসম্পাদন করেহোমিওপ্যাথি বোর্ড স্বীকৃত ডিপ্লোমা সনদ রেজিস্ট্রেশনলাভ করেন ধরনের চিকিৎসকগন সাধারণপর্যায়ের রোগচিকিৎসা করারযোগ্যতা রাখেন 

  স্নাতক বা এমবিবিএস সমমান: আমাদের দেশেবি.এইচ.এম.এস. (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ডসার্জারী) ডিগ্রীকে এমবিবিএস সমমান হিসেবে  বিবেচনাকরা হয় ধরনের চিকিৎসকগণ দেশেরএকটি সরকারী একটিবেসরকারী হোমিওপ্যাথিকমেডিকেল কলেজহতে বছর মেয়াদীকোর্স (ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিতসম্পাদন করারপর স্বাস্থ্যঅধিদপ্তর হতেরেজিস্ট্রেশন লাভ করেন এটিই বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোচ্চডিগ্রীতাই যেকোন রোগেহোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য ধরনেরচিকিৎসকই উপযুক্ত 

 এমবিবিএস সমমানেরডিগ্রী অর্থাৎবিএইচএমএস ডিগ্রী অর্জন করার পরঅনেকেই এদেশকিংবা বিদেশহতে উচ্চতরপ্রশিক্ষণ কিংবা ডিগ্রী লাভ করেথাকেনআমাদের দেশেবিএইচএমএস পরবর্তী পরবর্তী কিছু স্নাতকোত্তর ডিগ্রী রয়েছে; যেমন- এম.পি.এইচ (মাস্টার্সঅব পাবলিকহেলথ), এম.এস-মাইক্রোবায়োলজিইত্যাদি  স্নাতকোত্তরপ্রশিক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত  রয়েছে- হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, বন্ধ্যাত্ব, শিশু স্বাস্থ্য, মানসিক রোগ, চর্মরোগ ইত্যাদি

  পর্যায়েরচিকিৎসকদের পদমর্যাদা অনুসারে শ্রেণীবিন্যাস ( উচ্চক্রম থেকে নিম্নক্রম ) করাযেতে পারে যেমন- অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, মেডিকেল অফিসার প্রভাষক 

 বাংলাদেশের বিভিন্নসরকারী হাসপাতালে( উপজেলা জেলা পর্যায়ে) এধরনের চিকিৎসকমেডিকেল অফিসারহিসেবে কর্মরতআছেন

 

ভাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক যেভাবে চিনবেন

আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নামে প্রতারনা হয় তাই বলেএই চিকিৎসাপদ্ধতি এড়িয়েযাওয়া বুদ্ধিমানেরকাজ নয় ভাল মানের চিকিৎসক খুঁজতেহবেহোমিওপ্যাথিক নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা-


এমবিবিএস সমমান (বিএইচ.এমএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নেয়াইউত্তম। কারণ এর চেয়ে নিম্নতর যোগ্যতার ( ডিপ্লোমা প্রাপ্ত কিংবা সার্টিফিকেটহীন ) চিকিৎসকের জ্ঞান সীমিত তাই  রোগের চিকিৎসা সফল নাও হতে পারে।

যে চিকিৎসক আপনাকেগ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করতে চাইবেতার কাছেকখনোই চিকিৎসানেয়া যাবেনা। কারণ চিকিৎসা শতভাগ ফলপ্রসূ হবে তা কখনোই বলা যায় না। তাই চিকিৎসা ক্ষেত্রে গ্যারান্টি মানেই প্রতারণা।

যে চিকিৎসক বলেটেস্ট করারপ্রয়োজন নেইতার নিকটচিকিৎসা নানেয়াই উত্তম। কারণ রোগ চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রোগ নির্ণয়। সঠিক রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা ফলপ্রসূ হয়। আর রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়।

যে চিকিৎসক বলে যে হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি একসাথে নেয়া যাবে না তার নিকট চিকিৎসা না নেয়াই ভাল কারণ অল্প কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধের সাথে সুনির্দিষ্ট কিছু অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের মিথস্ক্রিয়া হতে পারে তাই হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবনকালীন সময় বেশিরভাগ অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ সেবন করা যায় ।

 এলোপ্যাথিক চিকিৎসক যেঔষধ খেয়েযেতে ( যেমনইনসুলিন ) বলেছেন সে ঔষধ কোনচিকিৎসক হঠাৎকরে বন্ধকরতে বললেসেই চিকিৎসকেরনিকট চিকিৎসানেয়া যাবেনাকারণ কিছু কিছু অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যা এক নাগাড়ে দীর্ঘদিন সেবন/ব্যবহার করলে দেহে তার প্রতি কিছুটা নির্ভরশীলতা তৈরি হয় এবং ঔষধগুলো নিয়ম অনুযায়ী ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়। যদি আকস্মিক ভাবে ঔষধটি বন্ধ করা হয় তবে দেহে বিশৃংখল অবস্থা দেখা দিতে পারে।

 


 

সকল রোগীদের শুভ কামনায়

 

হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ 

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী প্রাপ্ত

শেরপুর জেলার সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন

 সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম

 বি.এইচ.এম.এস. (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী; ঢা.বি.)

সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ

এইচ.ই.সি (ভারত), ডি.এম.এস, ডি.এইচ.আর, সি.এম.ইউ (আল্ট্রা) সি.এম.আই (বন্ধাত্ব), সি.ডি.টি.এম. সি.পি


সহকারী অধ্যাপক (প্রাক্তন):  বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্স. ঢাকা

জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রাক্তন) : গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ঢাকা

এক্স-এইচ.পি: সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

 

মেডিসিন, চর্ম ও যৌনরোগ, নাক-কান-গলা, শিশু রোগ, স্ত্রীরোগ, প্যাথলজি, সহ 

শতাধিক মেডিকেল বই রচয়িতা (ভারত ও বাংলাদেশে পঠিত)

 

হোমিওপ্যাথি,প্যারামেডিকেল, পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষক

স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও চিকিৎসা পরামর্শক

পুরুষ-মহিলা-শিশুদের নতুন পুরাতন ও জটিল রোগের চিকিৎসক

 

চেম্বার

হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সেন্টার

খাদ্যগুদাম মোড়, (খাদ্যগুদাম মসজিদের পূর্ব দিকে), শেরপুর টাউন, শেরপুর।

 

ফেসবুক: fb.com/dr.maaq

ওয়েব: drmaaqbd.blogspot.com

সিরিয়ালের জন্য: ০১৯৭২ ৪০০ ৯৩৯ ( সকাল ১১.০০ টা থেকে রাত ৮.০০ টা )

 


 


সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন পর্ব-৩ ( হার্বাল চিকিৎসক )

 



আমাদের দেশে তিনটি স্বীকৃত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে; অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও হার্বাল। আমরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় উক্ত তিন ধরনের চিকিৎসার কোন একটি বা একাধিক গ্রহন করে থাকি। কিন্ত আমরা কি বুঝি কোন ডাক্তারের যোগ্যতা কতখানি? সঠিক যোগ্যতার ডাক্তার নির্বাচন না করলে হয়ত রোগীর অযথা ভোগান্তি হতে পারে। তাই ডাক্তারদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে জানার ধারাবাহিক আলোচনার ৩য় পর্ব: হার্বাল চিকিৎসক

  

হার্বাল চিকিৎসাব্যবস্থা

হার্বাল বাগাছ-গাছড়াদ্বারা চিকিৎসাসবচেয়ে প্রাচীনচিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের দেশে ইউনানী (মুসলমানকর্তৃক বিকশিত)  আয়ুবের্দী (ভারতীয়কর্তৃক উদ্ভাবিত) এই দুটিস্বীকৃত হার্বালচিকিৎসা রয়েছে আসুন এবার ব্যবস্থারচিকিৎসকদের যোগ্যতা সম্পর্কে জানা যাক

             সার্টিফিকেটহীন সাধারণচিকিৎসক: সাধারণভাষায় আমরাএদের কবিরাজহিসেবে অবহিতকরে থাকি ধরনের চিকিৎসকগণ নিজেরাঔষধ তৈরিকরেন বিভিন্ন কোম্পানীরঔষধ বিক্রয়করেন  ধরনের চিকিৎসকবৃন্দেরজ্ঞান সীমিতএবং শুধুমাত্র প্রাথমিকপর্যায়ের অতিসাধারণ রোগচিকিৎসার উপযুক্ত

             ডিপ্লোমা: আমাদেরদেশে ডি.ইউ.এম.এস (ইউনানী) এবং ডি..এম.এস ( আয়ুর্বেদী)  দ্বারাহার্বাল ডিপ্লোমাবোঝানো হয় ধরনের চিকিৎসকগণ বাংলাদেশেরবিভিন্ন ডিপ্লোমাইউনানী আয়ুবের্দী কলেজ হতে কোর্স সম্পাদনকরে ইউনানী আয়ুবের্দীবোর্ড স্বীকৃতসনদ লাভকরেন ধরনেরচিকিৎসকগন প্রাথমিক পর্যায়ের সাধারণ রোগেরচিকিৎসা করারযোগ্যতা রাখেন উল্লেখ্য কখনো কখনো দেখাযায় অধ্যয়নরতঅবস্থায় (ডিপ্লোমাপাশ নাকরেই) অনেকেইচিকিৎসা সেবাদেয়া শুরুকরেন, যারোগীদের জন্যভোগান্তির কারণ হতে পারে

             স্নাতক বা এমবিবিএস সমমান  : আমাদের দেশেবি.ইউ.এম.এস(ব্যাচেলর অব ইউনানী মেডিসিন এন্ডসার্জারী) এবং বি..এম.এস (ব্যাচেলরঅব আয়ুর্বেদীকমেডিসিন এন্ডসার্জারী) ডিগ্রীকে এমবিবিএস সমমান হিসেবে  বিবেচনা করা হয় ধরনের চিকিৎসকগণ দেশেরএকমাত্র সরকারীইউনানী আয়ুর্বেদীকমেডিকেল কলেজহতে বছর মেয়াদীকোর্স ( ঢাকাবিশ্ববিদ্যায় নিয়ন্ত্রিত) সম্পাদন করার পরস্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে রেজিস্ট্রেশন লাভকরেনবি.ইউ.এম.এস(ব্যাচেলর অব ইউনানী মেডিসিন এন্ডসার্জারী) এবং বি..এম.এস (ব্যাচেলরঅব আয়ুর্বেদীকমেডিসিন এন্ডসার্জারী) ডিগ্রী বাংলাদেশে হার্বাল চিকিৎসাব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ডিগ্রী তাই হার্বাল ঔষধের চিকিৎসারজন্য ধরনের চিকিৎসকইউপযুক্ত 

 বি.ইউ.এম.এস/ বি..এম.এস ডিগ্রীঅর্জন করারপর অনেকেইএদেশ কিংবাবিদেশ হতেউচ্চতর প্রশিক্ষণকিংবা ডিগ্রীলাভ করেথাকেনআমাদের দেশেবি.ইউ.এম.এস/ বি..এম.এস পরবর্তীকিছু স্নাতকোত্তর ডিগ্রী/ প্রশিক্ষণ রয়েছে; যেমন- এম.পি.এইচ(মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ), এম.এস-মাইক্রোবায়োলজি, ডি.এম.ইউ ( আল্ট্রাসনোগ্রাফি) ইত্যাদি 

বাংলাদেশের বিভিন্নসরকারী হাসপাতালে বি.ইউ.এম.এস / বি..এম.এস  চিকিৎসকগণ মেডিকেলঅফিসার হিসেবেকর্মরত আছেন

 

ভাল হারবালচিকিৎসক যেভাবেচিনবেন

আমাদের দেশেহারবাল চিকিৎসারনামে প্রতারণাবেশি হয় তাই বলেএই চিকিৎসাপদ্ধতি এড়িয়েযাওয়া বুদ্ধিমানেরকাজ নয় ভাল মানের চিকিৎসক খুঁজতেহবেহারবাল চিকিৎসক নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা-

এমবিবিএস সমমান (বিএএমএস/বিইউএমএস)ডিগ্রীডিগ্রীধারী চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নেয়াইউত্তম। কারণ এর চেয়ে নিম্নতর যোগ্যতার ( ডিপ্লোমা প্রাপ্ত কিংবা কবিরাজ ) চিকিৎসকের জ্ঞান সীমিত তাই  রোগের চিকিৎসা সফল নাও হতে পারে।

যে চিকিৎসক আপনাকেগ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করতে চাইবেতার কাছেকখনোই চিকিৎসানেয়া যাবেনা। কারণ চিকিৎসা শতভাগ ফলপ্রসূ হবে তা কখনোই বলা যায় না। তাই চিকিৎসা ক্ষেত্রে গ্যারান্টি মানেই প্রতারণা।

যে চিকিৎসক বলেটেস্ট করারপ্রয়োজন নেইতার নিকটচিকিৎসা নানেয়াই উত্তম। কারণ রোগ চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রোগ নির্ণয়। সঠিক রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা ফলপ্রসূ হয়। আর রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসক যেঔষধ খেয়েযেতে/ ব্যবহারকরতে ( যেমনইনসুলিন ) বলেছেন সে ঔষধ কোনচিকিৎসক হঠাৎকরে বন্ধকরতে বললেসেই চিকিৎসকেরনিকট চিকিৎসানেয়া যাবেনাকারণ কিছু কিছু অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে যা এক নাগাড়ে দীর্ঘদিন সেবন/ব্যবহার করলে দেহে তার প্রতি কিছুটা নির্ভরশীলতা তৈরি হয় এবং ঔষধগুলো নিয়ম অনুযায়ী ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়। যদি আকস্মিক ভাবে ঔষধটি বন্ধ করা হয় তবে দেহে বিশৃংখল অবস্থা দেখা দিতে পারে।

 

 

সকল রোগীদের আরোগ্য কামনায়

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম


সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন পর্ব-২ ( দন্ত চিকিৎসক )

 


আমরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহনের জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্ত আমরা কি বুঝি কোন ডাক্তারের যোগ্যতা কতখানি? সঠিক যোগ্যতার ডাক্তার নির্বাচন না করলে হয়ত রোগীর অযথা ভোগান্তি হতে পারে। তাই ডাক্তারদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে জানার ধারাবাহিক আলোচনার ২য় পর্ব: দন্ত চিকিৎসক ।

 

 

দন্ত চিকিৎসক বা দাঁতের ডাক্তার পরিচিতি

অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের মধ্যে কিছু বিশেষ ধরনের চিকিৎসক রয়েছেন যারা শুধু দাঁতের চিকিৎসা করেন। এসকল চিকিৎসক ’ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। এ ক্ষেত্রেও তিন ধরনের চিকিৎসক দেখা যায়। যথা-

1) সনদবিহীন বা অস্বীকৃত সনদধারী : বিভিন্ন ডেন্টাল চেম্বারে কাজ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে কিংবা অস্বীকৃত ডেন্টাল কোর্স সম্পাদন করার পর ডেন্টাল চিকিৎসা করেন। এ ধরনের চিকিৎসকদের জ্ঞান অতি সীমিত এবং শুধু মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের অতিসাধারণ দন্তরোগ চিকিৎসার উপযুক্ত। এদের দ্বারা দাঁতের ফিলিং করানো বা দাঁত উঠানো উচিৎ বা কোন জটিল কাজ করানো উচিৎ নয়।

2) ডিপ্লোমা ও বি.এস.সি ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট : এ ধরনের চিকিৎসকগণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে ’ডিপ্লোমা ও ’বি.এস.সি ইন ডেন্টাল টেকনোলজি কোর্স সম্পন্ন করে থাকেন। এ ধরনের চিকিৎসকগন প্রাথমিক পর্যায়ের সাধারণ দন্তরোগ চিকিৎসার উপযুক্ত তবে সনদবিহীন বা অস্বীকৃত সনদধারী চিকিৎসকদের চেয়ে উন্নতমানের। এদের নিকট জটিল কাজের মধ্যে ফিলিং করানো যেতে পারে তবে অন্যান্য জটিল কাজ ( যেমন-দাঁত উঠোনো, রুট ক্যানেল ইত্যাদি ) না করানোই উত্তম।

3) বি.ডি.এস : স্নাতক পর্যায়ের ও এমবিবিএস সমমানের ডিগ্রী। দাঁতের চিকিৎসার জন্য এ ধরনের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই নিরাপদ। দাঁতের কোন জটিল কাজ যেমন- দাঁত তোলা, স্থায়ী ফিলিং, রুট ক্যানেল, ভাঙ্গা দাঁত ঠিক করা, আঁকাঁবাকা দাঁত সোজা করা ইত্যাদি বিডিএস ডাক্তার দ্বারাই করাতে হবে।

বি.ডি.এস. সম্পন্ন করার পর উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রী নেয়ার সুযোগ এমবিবিএস চিকিৎসকদের অনুরূপ। দন্তরোগ, মুখগহবরের রোগ, অর্থোডন্ডিক্স, মুখমন্ডলের সার্জারী ইত্যাদি ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রী প্রদান করা হয়ে থাকে। এধরনের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও পদমর্যাদার ধাপ রয়েছে, যেমন- অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও মেডিকেল অফিসার ইত্যাদি।

 

সকল রোগীদের শুভ কামনায়

 

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম।


সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন পর্ব-১ ( অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক )



 

আমাদের দেশেতিনটি স্বীকৃতচিকিৎসা ব্যবস্থারয়েছে; অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি হার্বাল আমরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় উক্ততিন ধরনেরচিকিৎসার কোনএকটি বাএকাধিক গ্রহনকরে থাকি তাই এই তিন ধরনেরচিকিৎসা ব্যবস্থারচিকিৎসকদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানাউচিৎ। চিকিৎসকের যোগ্যতা সম্পর্কে জানার ধারাবাহিক আলোচনার প্রথম পর্ব: আ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক । 

 

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থা

মূলত চিকিৎসাবলতে অ্যালোপ্যাথিকেইবোঝানো হয় এটিই আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আসুন এবার আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থারচিকিৎসকদের যোগ্যতা সম্পর্কে জেনে নেই

(১) সনদবিহীন (সার্টিফিকেটহীন) চিকিৎসক পল্লী চিকিৎসক: সাধারণত গ্রাম শহরেযারা নিজেরাঔষধ বিক্রয়করেন তারাই ধরনেরচিকিৎসক ধরনেরচিকিৎসকের কোন সার্টিফিকেট ( চিকিৎসা শিক্ষারপ্রমানপত্র হিসেবে) নেই কিংবা এল.এম.এফ, আর.এম.পি ইত্যাদিনামে অস্বীকৃতসনদ রয়েছে(বিভিন্ন সংস্থাব্যবসায়ীক ভিত্তিতে ধরনের প্রশিক্ষণকোর্স পরিচালনাকরে থাকেএবং তাদেরনিজস্ব সনদপ্রদান করেথাকে) ধরনেরচিকিৎসকদের জ্ঞান সীমিত এবং শুধুমাত্র প্রাথমিকপর্যায়ের অতিসাধারণরোগ চিকিৎসারউপযুক্তউল্লেখ্য ধরনের চিকিৎসকেরপরামর্শে এন্টিবায়োটিকএবং অধিকমূল্যমানের ঔষধ সেবন না করাইউত্তম

 (২) ডিএমএফ: সরকারী বেসরকারীমেডিকেল এসিস্ট্যান্টট্রেনিং স্কুলহতে তিনবছর/চারবছর মেয়াদীকোর্স সম্পন্নকৃতএবং বাংলাদেশরাস্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ স্বীকৃত সনদধারীচিকিৎসক ধরনেরচিকিৎসক সরকারীপর্যায়ে উপসহকারীকমিউনিটি মেডিকেলঅফিসার হিসেবেকর্মরত আছেন ধরনের চিকিৎসকগনও প্রাথমিকপর্যায়ের চিকিৎসকতবে সার্টিফিকেটহীন পল্লীচিকিৎসকদের চেয়ে উন্নত উল্লেখ্য ধরনের চিকিৎসকেরপরামর্শে এন্টিবায়োটিক অন্যান্যঔষধ সেবনকরা তুলনামূলকনিরাপদ

 (৩) এম.বি.বি.এস: স্নাতক পর্যায়েরচিকিৎসক ধরনেরচিকিৎসক বিভিন্নমেডিকেল কলেজহতে এইডিগ্রী লাভকরেনযে কোনধরনের রোগেরচিকিৎসায় ধরনের চিকিৎসকগণইউপযুক্ত

 এমবিবিএস ডিগ্রীঅর্জন করারপর অনেকেইউচ্চতর প্রশিক্ষণকিংবা ডিগ্রীলাভ করেথাকেনযেমন-

 স্নাতকোত্তর সাধারণপ্রশিক্ষণ: সার্টিফিকেট পর্যায়ের স্নাকোত্তর প্রশিক্ষণ, তবে কিছুকিছু ক্ষেত্রেস্বীকৃত নয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণহতে পারেযেমন- মেডিসিন, স্ত্রী প্রসুতি বিদ্যা, শিশু রোগইত্যাদি

   পিজিটি (পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ট্রেনিং) : সার্টিফিকেট পর্যায়ের ¯œাতকোত্তরপ্রশিক্ষণ, তবে স্বীকৃত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণহতে পারেযেমন- মেডিসিন, স্ত্রী প্রসুতি বিদ্যা, শিশু রোগইত্যাদি

  স্নাকোত্তর ডিপ্লোমা: বিভিন্ন ক্ষেত্রেএই ডিগ্রীহতে পারে; যেমন- হৃদরোগ, চর্ম যৌণ, নাক-কান-গলা, স্ত্রীরোগ প্রসুতী বিদ্যা, আল্ট্রাসনোগ্রাফিইত্যাদি

  স্নাকোত্তর ডিগ্রী: এম-এস, এম-ফিল, এম-ডিইত্যাদি স্নাকোত্তর ডিগ্রী আমাদের দেশে এমসিপিএস এফসিপিএস -কেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী হিসেবেমূল্যায়ন করাহয় স্নাকোত্তর ডিগ্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেয়াহয়ে থাকে যেমন- মেডিসিন, সার্জারী, হৃদরোগ, শিশুরোগ, মূত্ররোগ, মানসিক রোগ, স্নায়ুরোগ ইত্যাদি   যে ডাক্তার যেবিষয়ে ধরনের ডিগ্রীপেয়েছেন তিনি ক্ষেত্রেরবিশেষজ্ঞ হিসেবেমর্যাদা লাভকরেন

এছাড়াও বিভিন্নধরনের ফেলোশিপ সদস্যপদরয়েছে, যেগুলো স্নাকোত্তর যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করাহয়তবে এগুলোকোন ডিগ্রীনয়যেমন- ডব্লু এইচও ফেলোশিপ

এমবিবিএস পর্যায়েরডাক্তারদের পদমর্যাদা অনুসারে শ্রেণীবিন্যাস (উচ্চক্রমথেকে নিম্নক্রম) করাযেতে পারে বিভিন্নভাবে এই শ্রেণী বিন্যাসকরা যায় যেমন- ( এখানে উচ্চতর থেকেনিম্নতরক্রম দেখানোহলো)

  সরকারী জেনারেলহাসপাতাল পর্যায়ে:  সিনিয়রকনসালটেন্ট, কনসালটেন্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেলঅফিসার

  মেডিকেল কলেজহাসপাতাল পর্যায়ে: অধ্যাপক, সহযোগীঅধ্যাপক, সহকারীঅধ্যাপক, প্রভাষক এছাড়াও এধরনের হাসপাতালে আরওএকটি পদমর্যাদারধাপ রয়েছে, যেমন-  রেজিস্টার, সহকারী রেজিস্টার, মেডিকেল অফিসার



সকল রোগীর সঠিক চিকিৎসা হোক 

এই কামনায়

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম 



ধারাবাহিক পোস্টের প্রথম পর্বের সমাপ্তি


================


পরবর্তী পর্ব: 
সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন পর্ব-২ ( হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক )